ইতিহাস নয়-বিশ্বাসেই টিকে আছে শিয়ালগাজীর দারগাপীর:রাণীশংকৈলে রহস্যময় এক জনপদ
আপডেট সময় :
২০২৬-০৪-০৭ ১২:০২:১৭
ইতিহাস নয়-বিশ্বাসেই টিকে আছে শিয়ালগাজীর দারগাপীর:রাণীশংকৈলে রহস্যময় এক জনপদ
মাহাবুব আলম,রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:
শিয়ালগাজীর এই কবরস্থানটি এক লোকজ ঐতিহ্যের অংশ, যার সঠিক লিখিত ইতিহাস না থাকলেও মানুষের বিশ্বাস ও ভক্তিই এটিকে জীবন্ত করে রেখেছে। যা ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার লেহেম্বা ইউনিয়নের শিয়ালগাজী কবরস্থান স্থানীয়দের কাছে এক রহস্যময় ও আধ্যাত্মিক স্থান। এখানে অবস্থিত দারগাপীরের কবরে মানুষ সালাম দিয়ে রাস্তা পারাপার হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এই কবরটি প্রায় ৭০ হাত লম্বা, যা সাধারণ কবরের তুলনায় অস্বাভাবিক বড়। কবরটি এখনো লাল শালু কাপড় দিয়ে মোড়ানো রয়েছে, যা স্থানটির ধর্মীয় গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মানত ও বিশ্বাসের আলোকে প্রত্যক্ষদর্শী মুনছুর আলী জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই দারগাপীরের কবরকে ঘিরে নানা অলৌকিক কাহিনী প্রচলিত রয়েছে। অনেকেই এখানে এসে মানত করেন এবং তাদের আশা পূরন হয়েছে বলে দাবি করেন। ফলে দিন দিন এই স্থানে ভক্তদের আগমন বাড়ছে। সেবা করলে অনেক কিছু পাওয়া যায়। আমি নিজেও পেয়েছি। যেমন পাশ্ববর্তী পুকুরে মাছ থাকে ,পীরের সেবা করলে মাছ পাওয়া যায়- না করলে পুকুরে মাছ পাওয়া যায় না।
গোগর বাজারের রবিউল ইসলাম বলেন, স্থানটিতে প্রায়ই মিলাদ, দোয়া ও ফাতেহা পাঠের আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে নির্দিষ্ট দিনগুলোতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এসে এখানে ইবাদত করেন এবং রান্নাবান্না করে এখানে খেয়ে চলে যান। কবরের চারপাশে এক ধরনের নীরব ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ বিরাজ করছে। তিনি দাবী করেন এই ধরনের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থানগুলোর যথাযথ সংরক্ষণ প্রয়োজন। এতে করে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই লোকজ ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারবে।
শিয়ালগাজী কবরস্থানের দারগাপীর শুধু একটি কবর নয়, এটি মানুষের বিশ্বাস, আস্থা ও গ্রামীণ সংস্কৃতির এক জীবন্ত প্রতীক। লিখিত ইতিহাসের বাইরে থেকেও এই স্থানটি আজ মানুষের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।
এপ্রসঙ্গে আবাদতাকিয়া মোহাম্মদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আইয়ুব আলী বলেন, এ কবরটি বহু পুরোনো মানুষ বিপদে আপদে সেখানে যায়,জিয়ারত করে আল্লাহর সুফল দেয়, তবে মাজার দেয় এটা ঠিক না।
সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিরা এ মাজারটির প্রাচীর নির্মাণ করে দেয়। তখন থেকেই এলাকার লোকজন সেখানে মানত করে টাকা পয়সা দেয়। তবে মনের বাসনা পূর্ণ হয়কিনা তা আমার জানা নেই।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স